
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফেনীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। একই রায়ে আরও চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথি ও আদালতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামির মধ্যে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম রয়েছেন। হাইকোর্টের রায়ে চারজনের সাজা মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে বাকি ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
নুসরাত হত্যা মামলাটি ২০১৯ সালে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। ওই বছরের ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদরাসায় যাওয়ার পর নুসরাতকে পরিকল্পিতভাবে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেখানে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল।
ঘটনার পর গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাকে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তৎকালীন বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয় বলে জানা যায়।
কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান। তার মৃত্যুর ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ওই বছরের ২৮ মে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে মামলাটির বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর আদালত মামলার ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন। নিম্ন আদালতের ওই রায়ের পর নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের পক্ষ থেকেও আপিল ও জেল আপিল করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে হাইকোর্টে মামলাটির শুনানি সম্পন্ন হয়। এরপর সোমবার সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হলেও চারজনের সাজা পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে বলে আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নুসরাত হত্যাকাণ্ডের পর নারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হয়রানি প্রতিরোধ এবং বিচার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। মামলাটির হাইকোর্টের রায়ও এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর কোন আসামির সাজা পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং খালাসের বিস্তারিত যুক্তি আরও পরিষ্কার হবে। এ প্রতিবেদনটি আদালত ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।