
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর শিল্প এলাকায় অবস্থিত ম্যাট্রিক্স ড্রেসেস লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) থেকে কারখানাটি বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত ম্যাট্রিক্স ড্রেসেস লিমিটেডে প্রায় ১৫০টি মেশিন ছিল। প্রতিষ্ঠানটি মূলত টি-শার্ট ও ট্যাংক টপসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক উৎপাদন করে আসছিল। বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর তথ্যেও কারখানাটির এসব তথ্য উল্লেখ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত প্রায় দুই বছর ধরে নানা কারণে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকা এবং ব্যবসায়িক চাপের কারণে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক সংকটে পড়ে বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে কারখানাটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুল হাসান ফয়সাল কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক চিঠিতে কারখানা বন্ধের বিষয়টি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। চিঠিতে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সফল হননি।
চিঠিতে তিনি আরও দাবি করেন, শুধু ব্যবসায়িক মন্দার কারণেই নয়, কিছু মানুষের স্বার্থান্বেষী প্রচেষ্টার কারণেও প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে ওই দাবির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, কঠিন সময়ে প্রতিষ্ঠানের অনেক দক্ষ ও নিবেদিত কর্মী ধৈর্য ধরে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্যও তিনি শুভকামনা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্যান্য পাওনাদারের পাওনা পরিশোধের জন্য একটি ব্যবস্থা করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন কোনো ব্যবসার মাধ্যমে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর এবং পুরোনো কর্মীদের কয়েকজনের জন্য পুনরায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রত্যাশার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।
তবে কারখানা বন্ধের পর মোট কতজন শ্রমিক ও কর্মচারী কর্মসংস্থান হারিয়েছেন, তাদের পাওনা কত এবং পাওনা পরিশোধের নির্দিষ্ট সময়সূচি কী—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
কারখানা বন্ধের পেছনে উত্থাপিত বিভিন্ন কারণের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যই বর্তমানে সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।