
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মুখপাত্রের বক্তব্য প্রত্যাহার না করা হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি জানিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার এবং এ-সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদগুলোর বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা না এলে আইনগত প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কথা বিবেচনা করবেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ এসব কথা বলেন বলে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দুদকের মুখপাত্র গণমাধ্যমকে অবহিত করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে মুখপাত্র একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিষয়টি ভুলভাবে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে বলা হয়েছে বলে উল্লেখ করলেও, সেই বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি বলে দাবি করেন আসিফ মাহমুদ।
তার ভাষ্য, দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের কারণে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করা না হলে মানহানির আইনি বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে এ ঘটনায় দুদকের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
দুদকের অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, কোনো অভিযোগ দুদকে জমা পড়লেই সেটি তদন্তে যায় না। অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি বা সত্যতার উপাদান পাওয়া গেলে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার কথা জানিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে। এর একটি আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত এবং অন্যটি সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)-সংক্রান্ত বলে তিনি দাবি করেন।
আসিফ মাহমুদের বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা তার দায়িত্বের অংশ ছিল। অন্যদিকে পিএসসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং সেখান থেকে দেওয়া তালিকা অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়াতেই কাজ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট দুটি বিষয় সচিব পর্যায়েই নিষ্পত্তি হওয়ার সুযোগ ছিল এবং সেগুলো তার কাছে আসেনি। ফলে তার ওপর দায়িত্ব না থাকা সত্ত্বেও তাকে অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করে সম্মানহানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় আসিফ মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, দুদকের বর্তমান কার্যক্রমকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। তার দাবি, রাজনৈতিক বিরোধীদের চাপে রাখতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দুদকের বক্তব্য কী, তা এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।
এদিকে এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের যৌথ বিবৃতিতেও দুদকের সাম্প্রতিক কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। দলটির পক্ষ থেকে কমিশনের নিয়োগ ও কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এনসিপির দাবি, দেশের দুর্নীতি দমন ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
তবে দুদকের পক্ষ থেকে আসিফ মাহমুদের বক্তব্যের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে দুদক ও আসিফ মাহমুদের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।