
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে প্রায় দুই বছর পর প্রকাশ্যে অফিস করেছেন চেয়ারম্যান মো. তৈয়েবুর রহমান তুরাপ। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হাইকোর্টের আদেশের পর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়ার কয়েক মাস পর সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রথমবারের মতো পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে দাপ্তরিক কাজ করেন তিনি।
তার কার্যালয়ে ফেরাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর চেয়ারম্যানকে পরিষদ কার্যালয়ে সরাসরি দায়িত্ব পালন করতে দেখে স্থানীয়দের কেউ বিষয়টিকে স্বাভাবিক দায়িত্বে ফেরার ঘটনা হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহম্মদপুর উপজেলা সদরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও পুলিশের সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশের গুলিতে আহাদ ও সুমন নামের দুই ছাত্র নিহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী সময়ে ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটিতে নহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৈয়েবুর রহমান তুরাপকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলা হওয়ার পর তিনি কিছু সময় আত্মগোপনে ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এরই মধ্যে তার চেয়ারম্যান পদ স্থগিত করা হয়। পরে মামলায় জামিন পাওয়ার পর চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন তুরাপ।
রিটের শুনানি শেষে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি হাইকোর্ট নহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে আইনগত বাধা নেই বলে আদেশ দেন। ওই আদেশের পর তৎকালীন মাগুরা জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন বলে জানা গেছে।
হাইকোর্টের আদেশের পর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেও তুরাপ এতদিন ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে নিয়মিত বসেননি। নিজ বাড়িতে অবস্থান করেই পরিষদের দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
অবশেষে সোমবার সকালে নহাটা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যান তিনি। সেখানে চেয়ারম্যানের জন্য নির্ধারিত কক্ষে বসে পরিষদের বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন বলে জানা গেছে। তার উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিষদ কার্যালয় ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
চেয়ারম্যান মো. তৈয়েবুর রহমান তুরাপ বলেন, হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী তিনি নহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ সময় পর সোমবার পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে অফিস করেছেন এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো বাধার মুখে পড়েননি বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আইন ও হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করেই চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে ২০২৪ সালের সংঘর্ষ ও পরবর্তী মামলায় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফলে এসব অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মামলার বিচারিক কার্যক্রম ও আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হবে।
দীর্ঘদিন পর চেয়ারম্যানের পরিষদ কার্যালয়ে প্রকাশ্য উপস্থিতিকে ঘিরে নহাটা ইউনিয়নের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।