বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ন

ডিম-মাংসের উৎপাদন বাড়িয়ে দাম কমানোর তাগিদ

  • প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

ডিম-মাংসের উৎপাদন বাড়িয়ে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দাম রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। একই সঙ্গে প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিরা যাতে তাদের উৎপাদিত পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারেন, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় পোল্ট্রি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, উৎপাদন বৃদ্ধি, খামারিদের বিভিন্ন সমস্যা এবং বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, একই সঙ্গে ডিম ও মুরগির মাংসের গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে। উৎপাদক ও ভোক্তা—দুই পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশে ডিম ও মুরগির মাংসের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে পণ্যের দামও একটি যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন। এজন্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারের সরবরাহব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
পোল্ট্রি খাতে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধ করার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে ডিম, মাংস ও পোল্ট্রি ফিডের মান নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদনের বিষয়টি এ খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পোল্ট্রি শিল্পকে পরিকল্পিত ও টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে হবে। এ খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের সহযোগিতা থাকবে বলে জানান তিনি। বিশেষ করে প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে ঋণসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
পোল্ট্রি খাতের প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করতে মাঠপর্যায়ের খামারিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা প্রয়োজন বলেও মত দেন প্রতিমন্ত্রী। জানা গেছে, এ উদ্দেশ্যে গাজীপুর, ধামরাই, মানিকগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের প্রান্তিক খামারিদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে মতবিনিময় সভা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, পোল্ট্রি শিল্পের উদ্যোক্তা, খামারি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে এ খাত আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং নিরাপদ প্রাণিজ আমিষের সরবরাহ নিশ্চিত করতে পোল্ট্রি খাতের উন্নয়নে নীতিগত ও প্রশাসনিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
সভায় ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (এফআইএবি) ও বিপিআইসিসির সভাপতি মশিউর রহমান সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।
এ ছাড়া ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, এফআইএবির সিনিয়র সহসভাপতি মো. আহসানউজ্জামান, ডাব্লিউপিএসএ-বিবির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান, বিপিআইসিসির সচিব এ. টি. এম. মোস্তফা কামাল এবং নরিশের পরিচালক রফিকুল ইসলামসহ পোল্ট্রি খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট