শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

দুই পা অচল, অনার্স শেষে কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় রুবেল

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রুবেল মিয়া শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স সম্পন্ন করেছেন বলে জানা গেছে। ছোটবেলায় হাম রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তার দুই পা অচল হয়ে যায়। এরপর থেকে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না তিনি। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে এখন নিজের জন্য একটি কর্মসংস্থানের সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন এই তরুণ।
জানা গেছে, রুবেল মিয়া নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের পূর্ব ঘুঘরাকান্দী গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা ইব্রাহিম মিয়া। মা ময়না বেগম মারা গেছেন। মাত্র দুই বছর বয়সে হাম রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তার দুই পায়ের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। বর্তমানে হামাগুড়ি দিয়ে কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী বাবার সহায়তায় চলাফেরা করতে হয় তাকে।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, বাড়ির কাছের একটি ব্র্যাক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন রুবেল। পরে ২০১৮ সালে উত্তর নাকশী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০২০ সালে হাজী নূরুল হক নন্নী-পোড়াগাঁও মৈত্রী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। সর্বশেষ ২০২৬ সালে নালিতাবাড়ী সরকারি নাজমুল স্মৃতি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স শেষ করেছেন বলে জানা গেছে।
রুবেলের শিক্ষাজীবনের পথটি সহজ ছিল না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই মাকে হারান তিনি। মায়ের অনুপস্থিতির পাশাপাশি শারীরিক প্রতিবন্ধকতাও তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তবে বাবার সহযোগিতা ও নিজের আগ্রহে পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি।
রুবেলের ভাষ্য অনুযায়ী, পড়াশোনার খরচ জোগাতে ছাত্রজীবনে হাঁস-মুরগি পালন করেছেন। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ভাতার অর্থও শিক্ষার ব্যয় মেটাতে কাজে লাগিয়েছেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষা শেষ করার লক্ষ্য থেকে সরে যাননি তিনি।
এখন অনার্স শেষ করার পর নিজের ও পরিবারের জন্য কিছু করতে চান রুবেল। জানা গেছে, সমাজের ওপর নির্ভরশীল না থেকে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী একটি কাজ করে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে তার। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এ অবস্থায় নিজের যোগ্যতা ও সক্ষমতা বিবেচনায় একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন রুবেল। তার প্রত্যাশা, সুযোগ পেলে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারবেন।
কলসপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, রুবেল দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে আসছেন। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করা হয়েছে বলে তিনি জানান। রুবেলের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে শেরপুর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, রুবেলের বিষয়ে তিনি জানতে পেরেছেন। তার কম্পিউটার বিষয়ে দক্ষতা থাকলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান।
সব মিলিয়ে শারীরিক সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে উচ্চশিক্ষা শেষ করা রুবেলের সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া। একটি উপযুক্ত কাজের সুযোগ পেলে নিজের জীবনকে আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্ব পালনের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট