
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সরকারি সফরে চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। রোববার (৭ জুন) দুপুরে তিনি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সফরটি দুই দেশের তথ্য, যোগাযোগ ও গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।
সফর উপলক্ষে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তথ্যমন্ত্রীর একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। সাক্ষাৎকালে সফর-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় হয়। দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং তথ্য খাতে সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল সূত্রে জানা গেছে।
সরকারি সূত্রগুলোর তথ্যমতে, চীনে অবস্থানকালে তথ্যমন্ত্রী আগামী ৮ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য ‘৫ম সিএমজি ফোরাম’-এ অংশগ্রহণ করবেন। আন্তর্জাতিক এই ফোরামে বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক এবং যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ফোরামে তথ্যপ্রযুক্তি, আধুনিক গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল যোগাযোগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে সফরের সময় চীনের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে তথ্যমন্ত্রীর একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানা গেছে। ওই বৈঠকে তথ্য ব্যবস্থাপনা, গণমাধ্যম খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে তথ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও নীতিগত আলোচনা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি, তবে আলোচনার অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মুক্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত বিকাশের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সে ক্ষেত্রে এই সফর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে।
সফর শেষে দুই দেশের মধ্যে তথ্য, প্রযুক্তি ও গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সফর থেকে কী ধরনের সুনির্দিষ্ট ফলাফল আসে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট বৈঠক ও আলোচনার পরবর্তী অগ্রগতির দিকে নজর রাখতে হবে।