
অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে নতুন করে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের তৃতীয় দিনে কার্যপ্রণালী বিধির ৬৮-এর আওতায় একটি নোটিশ উত্থাপনের সময় তিনি বিষয়টি তুলে ধরেন। তবে বক্তব্যের একপর্যায়ে স্পিকার তাকে থামিয়ে দেন এবং পরে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানান। ফলে তার নোটিশের সম্পূর্ণ বক্তব্য সংসদে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তিনি দাবি করেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক চাপ ও সমালোচনার মধ্যেও ব্যাংকটি উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করেছিল এবং খেলাপি বিনিয়োগের হারও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে ছিল।
তার অভিযোগ, পরবর্তীকালে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের ঘটনা ঘটে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তিনি বলেন, এর প্রভাব ব্যাংকের মুনাফা ও শেয়ারহোল্ডারদের প্রাপ্ত সুবিধার ওপরও পড়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে খেলাপি বিনিয়োগের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ব্যাংকটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছিল। গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ইতিবাচক অগ্রগতির লক্ষণও দেখা যাচ্ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এমন পরিস্থিতিতে আবারও একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তার লিখিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে কিছু বিতর্কিত ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ব্যবস্থাপনায় অযাচিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যেভাবে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছিল, বর্তমানে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নোটিশে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে একদিনে বিপুল পরিমাণ আমানত উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এটিকে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থার সংকটের একটি ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষা এবং গ্রাহকদের আস্থা অক্ষুণ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো যথাযথভাবে তদন্তের দাবি জানান তিনি।