
বেগমগঞ্জ উপজেলায় এক যুবকের বিরুদ্ধে বিদেশি পিস্তল বহনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার সময় তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে তিনি অস্ত্র ফেলে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলের দিকে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বেতুয়াবাগ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, মো. তুহিন নামে এক যুবককে বাজার এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও আটকের চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তার কাছে থাকা একটি আগ্নেয়াস্ত্র মাটিতে পড়ে যায় এবং সুযোগ বুঝে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো আরও জানায়, অভিযুক্ত যুবক উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা এবং অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর এলাকাবাসী বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি। তাকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে নোয়াখালী জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস কী এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সব দিক সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন।