
বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা ও সরকারি অবস্থানকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তুলেছেন বলে জানা গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিষয়ে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সাদিক কায়েম এমন মন্তব্য করেন বলে জানা যায়। পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা বিশ্বব্যাপী একটি স্বীকৃত অর্থনৈতিক মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এবং বহু দেশেই এটি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইসলামী অর্থনীতির বিভিন্ন নীতিমালা ও ব্যাংকিং কাঠামো নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা ও চর্চা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থার ধর্মীয় বা অর্থনৈতিক বৈধতা নিয়ে অপ্রাসঙ্গিক বিতর্ক তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
সাদিক কায়েমের দাবি, রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়গুলো অধিক গুরুত্ব পাওয়ার কথা। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি খাতের সমস্যা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো বর্তমানে জনসাধারণের প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করার পরিবর্তে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে অর্থনৈতিক খাতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।
তবে সাদিক কায়েমের এই বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে তার উত্থাপিত অভিযোগ ও মন্তব্যের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত নিয়ে যে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মতামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বচ্ছ আলোচনা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণও প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক নেতা, অর্থনীতিবিদ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে মতামত প্রদান করছেন। সাদিক কায়েমের সাম্প্রতিক মন্তব্যও সেই চলমান আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।