
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে আজ (রোববার) দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর সেখান থেকে তিনি চার দিনের সফরে চীন যাবেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, চীন সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আগামী ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়।
জানা গেছে, মালয়েশিয়া সফর শেষে ২২ জুন বিকেলে চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ডালিয়ানে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি সামার দাভোস সম্মেলনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন। সম্মেলনের ফাঁকে কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, ২৪ জুন সামার দাভোসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বেইজিংয়ে যাবেন। সেখানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে অবস্থান করার কথা রয়েছে। ২৫ জুন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার বৈঠক হতে পারে বলে জানা গেছে।
এদিকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত একটি বিনিয়োগ ফোরামে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন বলে জানানো হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তুলে ধরে চীনা উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকল-সংক্রান্ত নোট স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দুই দেশের আলোচনার পরই জানা যাবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ পানি ব্যবস্থাপনা ও আন্তঃসীমান্ত নদীসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে মালয়েশিয়া সফরকালে দেশটির শ্রমবাজারে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হবে বলে পররাষ্ট্র সচিব উল্লেখ করেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশ-চীন এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শ্রমবাজার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।