
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
সরকারি কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফরের প্রবণতা কমিয়ে আনার বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে তুলনামূলক সাধারণ বিষয়েও বিদেশ সফরের নজির থাকলেও বর্তমানে সেই চর্চা থেকে সরে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সাভারের নলাম এলাকায় গণবিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন বলে জানা গেছে।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, একসময় খিচুড়ি রান্না শেখা কিংবা কচুরিপানা পরিষ্কার করার মতো বিষয়েও সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের উদাহরণ ছিল। তবে বর্তমান সরকার এমন অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর নীতিতে এগোচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তার দাবি, এমন একটি শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে, যেখানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা তাদের কোর্স সম্পন্ন করতে পারবে। একই সঙ্গে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষাজীবন সেশনজটমুক্ত রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
আলোচনা সভায় শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, নতুন শিক্ষাক্রমে শিশুদের আনন্দমুখর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, অতীতে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি। সে কারণে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় শিক্ষার বিষয়গুলো ধাপে ধাপে নতুন কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি প্রকৃত ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে তার বক্তব্যে উঠে আসে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যবহৃত পাঠ্যবইয়ে কিছু পরিবর্তন ইতোমধ্যে আনা হয়েছে। তবে পুরো শিক্ষাক্রম পরিবর্তন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া হওয়ায় তা বাস্তবায়নে সময় লাগবে বলেও উল্লেখ করেন।
শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন ব্যবস্থাপনায় এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হয়।
বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী রোববার ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। জানা গেছে, এবার প্রথমবারের মতো বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ২০ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
সম্প্রতি ভর্তি পরীক্ষার ফল নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকাশ হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় আসে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে ঘটেনি। তার দাবি, একজন অপারেটর ব্যক্তিগত উদ্যোগে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে ফল প্রকাশ করেছিলেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, সরকার সব ফলাফল নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে একসঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে চায়। অভিযোগ উঠেছে, আগাম ফল প্রকাশের মতো ঘটনা শিক্ষাপ্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও শিক্ষামন্ত্রী সতর্ক করেন।