
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় চলমান মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা পর্যায়ের অর্ধ-বার্ষিক এবং প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) উপজেলা প্রশাসনের প্রকাশিত একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংশোধিত পরীক্ষার সময়সূচি জানানো হয় বলে জানা গেছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্বনির্ধারিত ১২ ও ১৩ জুলাইয়ের পরীক্ষাগুলো নতুন তারিখে অনুষ্ঠিত হবে।
জানা গেছে, ১২ জুলাই (রবিবার) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা পরীক্ষাটি আগামী ১৯ জুলাই ২০২৬ (রবিবার) নেওয়া হবে। একইভাবে ১৩ জুলাই (সোমবার) নির্ধারিত পরীক্ষাটি আগামী ২০ জুলাই ২০২৬ (সোমবার) অনুষ্ঠিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, সাম্প্রতিক আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে অনেক শিক্ষার্থীর নিয়মিতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে সমস্যা দেখা দেয়। এমন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
এদিকে, উপজেলা প্রশাসনের নতুন নির্দেশনা গোয়ালন্দ উপজেলার সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসাগুলোর প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন সময়সূচি অনুসরণ করে যথাযথ নিয়মে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের ভাষ্য, পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন এলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। তবে বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি কমাতে এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
কয়েকজন অভিভাবকও জানিয়েছেন, নিরাপত্তার বিষয়টি যেকোনো পরীক্ষার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিকূল আবহাওয়ায় শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে না হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে সংশোধিত সময়সূচি আগেভাগে প্রকাশ পাওয়ায় পরীক্ষার্থীরা নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবেন বলেও তারা আশা করছেন।
শিক্ষকদের একটি অংশের মতে, সময়সূচি পরিবর্তনের মতো সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হলে তা আগেভাগে জানানো শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—সবার জন্যই ইতিবাচক। এতে পরীক্ষা গ্রহণে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সহজ হয় বলে তারা মন্তব্য করেছেন।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের নতুন সময়সূচি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি যেকোনো নতুন নির্দেশনা বা পরিবর্তনের বিষয়ে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার আহ্বানও জানানো হয়েছে।