Eng
চট্টগ্রাম, জাতীয়, লিড নিউজ

দুই কোটি টাকার বিনিময়ে স্বাক্ষরের দাবি, ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশিত: , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১:০০ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনকে ঘিরে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাকে অর্থের বিনিময়ে একটি কাজের অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে স্বাক্ষর করার বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ভিডিওটির সময়কাল এবং এর প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।
ভিডিওর একটি অংশে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনের সময় নুরুল আমিনকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলতে শোনা যায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কথোপকথনে তিনি একটি বিলের বিপরীতে ওই অর্থ নেওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থানের কথা জানান। একই অংশে তিনি একটি কাজের ব্যয়, মালামালের মূল্য এবং সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন।
ভিডিওতে আরও দাবি করা কথোপকথনে একটি কাজের প্রকৃত ব্যয় ও মালামালের দামের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্যের কথা উঠে আসে। ওই বক্তব্যে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের একটি হিসাবের কথাও বলা হয়েছে। এরপর দুই কোটি টাকা দেওয়ার বিনিময়ে সবকিছুতে স্বাক্ষর করার কথা বলতে শোনা যায় তাকে।
ভিডিওটির আরেকটি অংশে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণের দৃশ্য দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেখানে থাকা ব্যক্তিদের মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি। তাদের পরিচয় সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অর্থের পরিমাণ নিয়েও কথোপকথনে বিভিন্ন অঙ্কের উল্লেখ শোনা যায়।
একপর্যায়ে একজন ব্যক্তিকে টাকার পরিমাণ সম্পর্কে বলতে শোনা যায়। এরপর নির্বাহী প্রকৌশলী ওই অর্থের সঙ্গে আরও টাকা যোগ করে মোট পরিমাণ উল্লেখ করেন বলে ভিডিওর বর্ণনায় বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কারা এবং অর্থ দেওয়ার কারণ কী ছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হয়। তার দাপ্তরিক মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ভাইরাল ভিডিওতে থাকা বক্তব্য ও দৃশ্যের বিষয়ে তার সরাসরি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এদিকে ভিডিওটি আসলেই সাম্প্রতিক সময়ে ধারণ করা হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। একই সঙ্গে ভিডিওতে থাকা কথোপকথনের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট, অর্থ লেনদেনের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে আপাতত অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা হলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সিদ্ধান্তের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ভিডিওর প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন হতে পারে।