Eng
অর্থনীতি, জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ, সারা দেশ

সরবরাহ ঘাটতিতে বাড়ল এলপিজি, সিলিন্ডার বিক্রি ২১০০ টাকায়

প্রকাশিত: , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১:১৫ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার বর্তমানে খুচরা বাজারে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। অথচ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। ফলে নির্ধারিত দামের তুলনায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত ৪১৫ থেকে ৫১৫ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।
সরবরাহ সংকটের পেছনে এলপিজি আমদানি কমে যাওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হলেও সেপ্টেম্বরে তা কমে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে নেমেছে। এক মাসের ব্যবধানে আমদানির পরিমাণ কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন।
এর আগে ২ সেপ্টেম্বর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। তবে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হওয়ায় নির্ধারিত দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পণ্য পরিবহনে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে জাহাজ সংকটের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। বাংলাদেশের এলপিজি আমদানির বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিবহন পরিস্থিতির প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ছে।
আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে আরও বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির কার্গো সংগ্রহের ব্যয় বেড়েছে। বিভিন্ন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও চুক্তি থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বলে তাদের দাবি। ফলে বাড়তি অর্থ ব্যয় করেও প্রয়োজনীয় কার্গো সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এলপিজি ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে কার্গো প্রিমিয়ামের পরিমাণ টনপ্রতি ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারের মধ্যে উঠেছে। এতে নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করে আমদানিকারকদের বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। লোকসানের আশঙ্কায় কিছু প্রতিষ্ঠান আমদানি সীমিত রেখেছে বলেও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
একটি এলপিজি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রয়োজনীয় কার্গো পাওয়া। আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাড়তি অর্থ দিয়েও বাজার থেকে কার্গো সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
দেশে বছরে এলপিজির মোট চাহিদা প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন। এর প্রায় ৮০ শতাংশ গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহার হয়। দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ফলে আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সামান্য পরিবর্তন হলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
বিইআরসির পক্ষ থেকে সেপ্টেম্বরের সরবরাহ ঘাটতির পেছনে কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ সময়মতো না পৌঁছানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় আমদানিকারকদের সঙ্গে দ্রুত বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক নৌপথের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এবং প্রয়োজনীয় এলপিজি কার্গো সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে অক্টোবরেও সংকট অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সামনে রান্নার গ্যাসের বাজারে দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা থাকতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে নির্ধারিত দামের তুলনায় বেশি অর্থ দিয়ে এলপিজি কিনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, অন্যদিকে আমদানি কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিবহন পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং পর্যাপ্ত কার্গো সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর আগামী দিনের বাজার পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে।