
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর আবারও স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, যারা আগে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দখলের চেষ্টা করেছিলেন, তারাই এখন সেটি পরিষ্কার করার কাজে যুক্ত হয়েছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন আসিফ মাহমুদ। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্গঠন নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, আগের দিন তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে দখলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের লাগানো সাইনবোর্ড সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ দেখেছেন। এরপর সরকারি বিভিন্ন অংশের তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, যারা একটি পর্যায়ে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তারাই পরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে এসেছে।
রাড্ডা ক্লিনিকে সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, শুধু রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে দখলের অভিযোগ রয়েছে। এসব জায়গা দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি তা স্বাগত জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন।
ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি যাতে আবার দখলের কবলে না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, কোনো স্থাপনা দখলের ক্ষেত্রে সরাসরি হামলা বা শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি কাগজপত্র ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও দখলের চেষ্টা হতে পারে। তাই রাড্ডা ক্লিনিকের জমি ও স্থাপনা ব্যবহারের বিষয়ে সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবিষ্যৎ অবকাঠামো নিয়েও বক্তব্য দেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, সেখানে ভবিষ্যতে বড় ভবন নির্মাণ করা হলেও পুরো স্থাপনাটি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করা উচিত। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য সীমিত অংশ রেখে বাকি জায়গা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের কোনো ব্যবস্থা করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনাকে সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন এনসিপির এই নেতা। তার দাবি, সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি উঠে আসার কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দখলের চেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জায়গাটিকে ভবিষ্যতেও জনস্বার্থের একটি প্রতীক হিসেবে ধরে রাখার কথা বলেন।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সরকারি উদ্যোগে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের দাবি জানান আসিফ মাহমুদ। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় চিকিৎসা সরঞ্জাম, টিকা ও অন্যান্য সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত বা নিখোঁজ হয়ে থাকলে সেগুলোর যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি। আসিফ মাহমুদের অভিযোগ, প্রায় দুই শতাধিক মানুষ কয়েক ঘণ্টা ধরে সেখানে হামলা চালিয়েছে। তার মতে, শুধু কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে ব্যবস্থা শেষ করা উচিত নয়; ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেককে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা প্রয়োজন।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সংস্কার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে একটি মানবাধিকার সংগঠনও ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এসব ঘটনায় কারা দায়ী এবং তাদের ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি দীর্ঘদিন ধরে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা এবং টিকাদানসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছে। ফলে হামলা ও ভাঙচুরের পর কেন্দ্রটির স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি স্থাপনাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দখল বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের অভিযোগের অবসান ঘটানোর দাবি জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ।



