
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ক্যাডেট কলেজের সপ্তম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সিলেবাস অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষার মোট নম্বর ৩০০ থেকে কমিয়ে ২০০ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ কয়েক বছর পর আবারও ২০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতিতে ফিরছে ক্যাডেট কলেজের ভর্তি কার্যক্রম।
প্রতি বছর ষষ্ঠ শ্রেণি শেষ করা শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ক্যাডেট কলেজে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নেয়। সাধারণত লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এসব ধাপের মধ্যে লিখিত পরীক্ষাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নতুন সিলেবাসে লিখিত পরীক্ষার নম্বর বণ্টনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে ইংরেজি বিষয়ে ৬৫ নম্বর এবং গণিতে ৭০ নম্বর রাখা হয়েছে। বাংলায় থাকবে ৪৫ নম্বর। এ তিন বিষয়ের মোট নম্বর দাঁড়াচ্ছে ১৮০। বাকি ২০ নম্বর রাখা হয়েছে বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, তথ্যপ্রযুক্তি, সাধারণ জ্ঞান এবং বুদ্ধিমত্তা যাচাইয়ের জন্য।
অর্থাৎ নতুন কাঠামোয় শিক্ষার্থীদের প্রধান তিনটি বিষয়ে মোট ১৮০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। পাশাপাশি অন্যান্য জ্ঞান ও দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য নির্ধারিত ২০ নম্বরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর আগে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় মোট ৩০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন ইংরেজি ও গণিতে ১০০ নম্বর করে, বাংলায় ৬০ নম্বর এবং বিজ্ঞান, ইতিহাস, সামাজিক বিজ্ঞান, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সাধারণ জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার জন্য ৪০ নম্বর নির্ধারিত ছিল।
নতুন পরিবর্তনের ফলে আগের পরীক্ষার তুলনায় এবার লিখিত অংশের মোট নম্বর ১০০ কমেছে। একই সঙ্গে বিষয়ভিত্তিক নম্বরেও এসেছে পরিবর্তন। বিশেষ করে ইংরেজি, গণিত ও বাংলার নম্বর নতুন কাঠামোতে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষা ৩০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে ২০০৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হতো ২০০ নম্বরে। ফলে ২০২৭ সালের পরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় কয়েক বছর পর আবারও পুরোনো নম্বর কাঠামোতে ফিরছে ভর্তি পরীক্ষা।
তবে নতুন সিলেবাসে বিষয়ভিত্তিক নম্বর বণ্টন প্রকাশ করা হলেও পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট তথ্যের মধ্যে কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি। ফলে পরীক্ষার্থীদের সময়সংক্রান্ত নির্দেশনার জন্য পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যের দিকে নজর রাখতে হবে।
নতুন এই কাঠামোতে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও কিছুটা পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে নির্ধারিত নম্বরের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, তথ্যপ্রযুক্তি, সাধারণ জ্ঞান এবং বুদ্ধিমত্তার অংশটিও গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে।




