Eng
আন্তর্জাতিক, লিড নিউজ

পারমাণবিক আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ শর্ত দিল ইরান

প্রকাশিত: , ৬ নভেম্বর ২০২৬ | ৭:৪৬ অপরাহ্ণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি দেওয়ার মধ্যেই নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

পারমাণবিক বিতর্ক নিরসনে আলোচনার জন্য তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত সম্বলিত একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে।

একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হননি। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন কর্তৃপক্ষ বর্তমানে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, কূটনীতির পথ খোলা রাখতে তেহরান এই সাতটি শর্ত নির্ধারণ করেছে। তার স্পষ্ট বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না এবং কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসা হবে না। তেহরানের উত্থাপিত সম্ভাব্য শর্তগুলো হলো তবে খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের দাবিগুলোর মধ্যে থাকতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকে শর্তগুলোর আনুষ্ঠানিক তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

  1. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাতের পূর্ণ সমাপ্তি।
  2. ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।
  3. ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।
  4. বিদেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা।
  5. মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে কমানো।
  6. যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান।
  7. ইরানের ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের মার্কিন হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটন জানিয়েছে, কোনো ধরনের প্রাথমিক আলোচনার টেবিলে পারমাণবিক ইস্যুকে অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে। দুই পক্ষের মধ্যে যখন কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, তখনই যুদ্ধের আশঙ্কা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্প এর আগে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যার জবাবে ইরানও ব্যাপক পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত ইয়েমেনেও ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান পাল্টা আঘাত হানে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে। এছাড়া লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। এরপর লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়।