Eng
জাতীয়, ঢাকা, রাজনীতি, লিড নিউজ

জামায়াত-আওয়ামী লীগ নিয়ে উমামা ফাতেমার বিস্ফোরক মন্তব্য

প্রকাশিত: , ১ অক্টোবর ২০২৬ | ৮:৫০ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের মধ্যে তিনি কোনো পার্থক্য দেখেন না। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ততা একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ২টা ২৫ মিনিটের দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন উমামা ফাতেমা। তাঁর পোস্টে জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তরুণদের রাজনৈতিক ভূমিকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত তৈরির নানা দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
উমামা ফাতেমার বক্তব্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকা কিছু ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে নেতৃত্বের পর্যায়ে উঠে এসেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি সালাউদ্দীন আম্মারের নাম উল্লেখ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনকে বাদ দিয়ে শিবির ও ছাত্রশক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ক কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, এর ফলে ৫ আগস্টের পর এমন কিছু ব্যক্তি প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন, যাদের আন্দোলনের মূল ধারার সঙ্গে পূর্ববর্তী সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক কনটেন্ট নিয়েও উদ্বেগের কথা জানান উমামা ফাতেমা। তাঁর ভাষ্য, ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পরিকল্পিতভাবে জনমত তৈরির চেষ্টা হতে পারে এবং এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের তরুণদের কাছে ‘হিরো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, এ ধরনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে তরুণদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাবের মধ্যে চলে যেতে পারে।
মিয়ানমারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে জনমত প্রভাবিত করার সম্ভাব্য ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায় নিয়েও নিজের মতামত প্রকাশ করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে দেশের রাজনীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে উমামা ফাতেমা বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গন একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করছেন। একই সঙ্গে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্য নেই—এমন মন্তব্য করেন তিনি। জামায়াতের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ততা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা এবং অতীতের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড আড়াল করতে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
উমামা ফাতেমার এসব বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে দেওয়া রাজনৈতিক মন্তব্য ও অভিযোগ। এসব অভিযোগের সত্যতা বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান সম্পর্কে এই প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে তাঁর বক্তব্যকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব দাবি ও মতামত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।