Eng
ঝিনাইদহ, নিজস্ব প্রতিবেদক

মেধাতালিকায় ১৭তম, তবু শিক্ষক পদে নিয়োগ অনিশ্চিত মিশনের

প্রকাশিত: , ২ অক্টোবর ২০২৬ | ৬:৩৫ অপরাহ্ণ




নিজস্ব প্রতিবেদক:

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে উপজেলা পর্যায়ে মেধাক্রমে ১৭তম হয়ে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক শিক্ষার্থী মিশন আচার্য। তবে স্থায়ী ঠিকানায় নিজের নামে বসতভিটা না থাকাকে কেন্দ্র করে শেষ পর্যন্ত তার নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

মিশন আচার্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জন্মের পর থেকেই তিনি ওই এলাকায় বসবাস করে আসছেন। তবে নিজের নামে স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়েছেন।

মিশনের দাবি, তার বাবা অনেক বছর আগে পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার পর তিনি মায়ের সঙ্গে ঝিনাইদহে ভাড়া বাসায় বড় হয়েছেন। মা বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করে তার পড়াশোনা ও জীবনযাপনের ব্যয় বহন করেছেন বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় মোট ১৮২ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল বলে মিশনের বক্তব্য। তাদের মধ্যে ১৮০ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। বাকি দুজনের একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং অন্যজন তিনি নিজে বলে দাবি করেন মিশন।

চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জমি-সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে—এমন ধারণা থেকে তার এক খালু গ্রামের এলাকায় তার নামে দুই শতক জমি লিখে দেন বলেও জানান তিনি। পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় ওই জমির দলিলও জমা দিয়েছিলেন। তবে জমিটিতে তার কোনো বসতবাড়ি নেই এবং সেখানে তিনি কখনো বসবাস করেননি বলে জানান।

মিশনের ভাষ্য, পুলিশকে ভূমিহীন সনদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে জমির দলিল জমা দিতে বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে স্থায়ী ঠিকানায় বসতভিটা না থাকার বিষয়টি নিয়োগের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করে।

মিশন আচার্য বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন। দীর্ঘদিনের পড়াশোনা ও প্রস্তুতির পর চাকরির সুপারিশ পেয়েও নিয়োগ না পাওয়ায় তিনি হতাশ। তার দাবি, পারিবারিক আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন করে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করে অন্য চাকরির প্রস্তুতি নেওয়াও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানিয়েছেন, মিশন আচার্যের স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে একটি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে শিক্ষা অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়েছে।

তবে শেষ পর্যন্ত মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য থেকে জানা যায়।

ঘটনাটি সামনে আসার পর স্থায়ী ঠিকানা, বসতভিটা এবং সরকারি চাকরির নিয়োগ যাচাইয়ের মধ্যে সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে মিশন আচার্যের ক্ষেত্রে নিয়োগ না দেওয়ার চূড়ান্ত কারণ এবং প্রযোজ্য বিধান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তই এ বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।