
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গ্রিক সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরুয়ার আহমেদ ইমনকে হত্যার দায়ে একই বয়সী আরেক বাংলাদেশি নাগরিক সাহিন বাবুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন লারনাকা জেলা আদালত। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দেওয়া রায়ে আদালত তাকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন।
নিহত শাহরুয়ার আহমেদ ইমনের বয়স ছিল ২২ বছর। তিনি বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার লোচনপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে সাইপ্রাসে গিয়ে তিনি লারনাকায় বসবাস করছিলেন। তার বাবা নাসির মিয়া গ্রিসে বসবাসরত একজন বাংলাদেশি প্রবাসী।
মামলার শুনানিতে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ জুন একটি বাসে ইমনের সঙ্গে সাহিন বাবুর পরিচয় হয়। পরে তারা নিজেদের মোবাইল নম্বর বিনিময় করেন। বাসে মোবাইলের ওয়াই-ফাই হটস্পট ব্যবহারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনার পর সাহিন ইমনের ওপর ক্ষুব্ধ হন বলে মামলার তথ্য থেকে জানা যায়।
এর কয়েক দিন পর ৯ জুন সাহিন একটি ছুরি কেনেন। পরে ১১ জুন তিনি ইমনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই সময় প্রতিদিন ৫০ ইউরো বেতনের একটি চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়। চাকরির প্রস্তাবে বিশ্বাস করে ইমন কোফিনু এলাকায় সাহিনের সঙ্গে দেখা করতে যান।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে সাহিন ইমনকে একটি কসাইখানার কাছের নির্জন এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে ছুরি দিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়। পরে শ্বাসরোধ করে ইমনকে হত্যা করা হয় বলে মামলায় উঠে এসেছে। এরপর মরদেহ অন্য একটি স্থানে নিয়ে খড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
হত্যার পর ইমনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার পরিবারের কাছে অপহরণের একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। ইমনের বাবা নাসির মিয়ার কাছে ৩৫ হাজার ইউরো মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ইমনের কিডনি খুলে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও মামলার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আরও একটি বার্তায় ১০ হাজার ইউরো দাবি করা হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তকারীরা ইমনের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করে কোফিনু এলাকায় যান। তদন্তের একপর্যায়ে সাহিন বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ইমনের মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে বলে মামলার তথ্য জানায়।
পরে সাহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোফিনু এলাকা থেকে ইমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়।
এ ঘটনায় সাহিন বাবুর বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছিল। আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করার পর পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ইমনের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যাওয়া এক তরুণের এমন পরিণতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।



