
রাজনৈতিক প্রতিবাদে অংশ নিয়ে বিদেশি নাগরিকত্ব ও ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডের শর্ত ভঙ্গের দায়ে বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে বোম্বে হাইকোর্ট।
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ওসিআই কার্ডধারীরা ভারতে বসবাসকালে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিক্ষোভ বা কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন না। গত মাসে মুম্বাইয়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ তাকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নোটিশ প্রদান করে, যা চ্যালেঞ্জ করে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। এই নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। আদালত আরও বলেন, ‘আপনি এত বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন, অথচ এতদিন কখনো কোনো প্রতিবাদে অংশ নেননি। বিক্ষোভের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য জেনেই তিনি তাতে অংশ নিয়েছিলেন।
মামলার শুনানিতে সোমবার আদালত ইমরান খানের অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার মেয়াদ ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। তবে এই সুযোগের পাশাপাশি তাকে আদালতে একটি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতিরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শুধু সাধারণ হলফনামা জমা দিলেই চলবে না, তাকে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। আদালত মন্তব্য করে বলেন, কোনো ভারতীয় নাগরিক বিদেশে গিয়ে এমন কাজ করলে তাকে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানো হতো। এত বছর ভারতে থেকেও কেন তিনি এমন বিক্ষোভে জড়ালেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারক। এমনকি ‘যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্রতিবাদ ও ভোট দেওয়ার’ পরামর্শও দেন আদালত। সোমবার (০২ নভেম্বর) (পরবর্তী শুনানিতে) আদালত তার অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার মেয়াদ ০৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ালেও, এই ঘটনায় তাকে একটি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছেন। এত দিন এখানে থাকার পর হঠাৎ এখন কেন একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন?’। বিচারপতিরা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ করুন, এমনকি সেখানে গিয়ে ভোটও দিতে পারেন; কিন্তু আমাদের এখানে আপনাদের কোনো বিক্ষোভ সহ্য করা হবে না।’।
শুনানিকালে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-এর সলিসিটর জেনারেল যুক্তি দেন যে, ইমরান খান মার্কিন নাগরিক হওয়ায় এবং ওসিআই কার্ডধারী হিসেবে তার অধিকার একজন পূর্ণ ভারতীয় নাগরিকের চেয়ে সীমিত। জনপ্রিয়তার কারণে জনমনে প্রভাব রাখার ক্ষমতা থাকায় এমন কর্মকাণ্ডে তার অংশগ্রহণকে ইতিবাচকভাবে দেখছে না রাষ্ট্রপক্ষ। তিনি জানান, ইমরান খান জনসাধারণের ওপর যথেষ্ট প্রভাব রাখেন এবং ইনস্টাগ্রামে বেশ জনপ্রিয়।
অন্যদিকে, নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিনেতা আদালতকে জানান যে, দুই বছর আমেরিকা ছাড়া তার পুরো জীবনটাই ভারতেই কেটেছে। তার সন্তান, কর্মজীবন এবং সমস্ত শিকড় এই দেশেই গাঁথা, তাই ভারতই তার আসল ঠিকানা। এর পাশাপাশি আদালত ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ বা বিশ্ব একটি পরিবারের নীতির কথা উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন যে, মানবিক উদারতা দেখিয়ে ভবিষ্যতে তাকে ভারতেই থাকার সুযোগ করে দেওয়া হবে।




