Eng
জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ

কপ৩১ সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত: , ৩ নভেম্বর ২০২৬ | ৯:৪৭ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার, অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত এবং বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবি নিয়ে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় কপ৩১ সম্মেলনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্মেলনের উচ্চপর্যায়ের ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স সামিটে’ যোগ দিতে সংক্ষিপ্ত সফরে তুরস্ক যাবেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নেবেন। সফরসূচি ও সফরসঙ্গীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের আগে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) ৩১তম সম্মেলন কপ৩১ আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনের ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে আনতালিয়া এক্সপো সেন্টার। এর মধ্যে ১১ ও ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে উচ্চপর্যায়ের ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিট’।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সম্মেলনে বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও অভিযোজন কার্যক্রমে অর্জিত অগ্রগতি তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে উন্নত দেশগুলোর দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
ঋণের বদলে অনুদানভিত্তিক অর্থায়নে জোর
জলবায়ু মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক সহায়তার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবে সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে যেসব দেশের অবদান তুলনামূলকভাবে কম, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় তাদের ওপর বাড়তি ঋণের চাপ তৈরি হওয়া উচিত নয়।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান খুবই সামান্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব দেশটিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি বাংলাদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তির আওতায় বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবিও সম্মেলনে তুলে ধরা হবে। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় যেসব দেশ বেশি পরিমাণে কার্বন নিঃসরণ করছে, তাদের দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
সরকারের পরিবেশ উদ্যোগও তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী
গত ছয় মাসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নেওয়া পরিবেশ ও জলবায়ুসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উদ্যোগ সম্মেলনে উপস্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে খাল খনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এবং সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা।
সরকারের মতে, এসব উদ্যোগ জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও বৃহত্তর এশিয়ার প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের খাপ খাইয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা এবং বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার প্রচেষ্টাও তুলে ধরা হবে।
কপ৩১ সম্মেলনে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা, অভিযোজন কার্যক্রম জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন বাড়ানো এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বৈশ্বিক রূপান্তরের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়ার কথা রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও অন্যান্য জলবায়ুজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
সম্মেলনটির আয়োজক ও সভাপতিত্বের দায়িত্বে থাকবে তুরস্ক। অন্যদিকে, জলবায়ু আলোচনা ও দরকষাকষির মূল সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করবে অস্ট্রেলিয়া।