Eng
আন্তর্জাতিক, লিড নিউজ

ইরানের বিষয়ে শিগগির সিদ্ধান্ত নেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশিত: , ৬ নভেম্বর ২০২৬ | ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করা হবে কি না, সেই বিষয়ে শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতি ও ইরান নিয়ে পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণে তিনি তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানের ক্ষেত্রে তিনটি বিকল্প পথ নিয়ে হোয়াইট হাউসে পর্যালোচনা চলছে—নতুন করে ব্যাপক সামরিক হামলা চালানো, অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখা অথবা সমঝোতায় পৌঁছানো।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং তা যাতে ভবিষ্যতে পুনরায় গড়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি নতুন সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, তিনি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চান না, তবে পরিস্থিতি তেমন দাবি করলে হয়তো তাকে সেই পথে হাঁটতে হতে পারে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাপ্তাহিক গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ের অংশ হিসেবে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি আয়োজিত হয়। যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সহায়তা করার বিষয়ে পুতিন তার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

ট্রাম্প যখন সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়েই মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বৃহস্পতিবার কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং মিসরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে টেলিফোনে একাধিকবার আলোচনা করেছেন। এরই মধ্যে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছেন, যার মূল লক্ষ্য হলো কয়েকদিনের ব্যবধানে ছোট ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমে বৃহত্তর চুক্তির জন্য পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা।

প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় রয়েছে—প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার ও জব্দকৃত অর্থ অবমুক্তকরণ এবং এর বিপরীতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো। এটি এক বছর আগে কায়রোতে হওয়া একটি চুক্তির অংশ। দ্বিতীয় পর্যায়ে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিষয়টি রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে ইউরেনিয়াম মজুতসহ পারমাণবিক আলোচনার নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। এক বছর আগে কায়রোতে হওয়া একটি চুক্তির ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন আঞ্চলিক সূত্রগুলো। এরপর ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে পারমাণবিক আলোচনা আবার শুরু হবে।

কূটনৈতিক আলোচনার সমান্তরালে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই বৃহস্পতিবার মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি বার্তা হস্তান্তর করেন। পুতিন যুদ্ধে সহায়তার আশ্বাস দিলেও রেজাই স্পষ্ট করেন যে, ওয়াশিংটনের কাছে তাদের সাতটি শর্ত রয়েছে এবং সেগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা বা হরমুজ প্রণালি খোলার প্রশ্নই ওঠে না।

সামরিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি চূড়ান্ত রাখলেও, ওয়াশিংটন থেকে এখনও চূড়ান্ত নির্দেশ আসার অপেক্ষায় রয়েছে। এরই মধ্যে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ও তার স্ট্রাইক গ্রুপ সিঙ্গাপুরে অবস্থান নিয়েছে, যা এই অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উপস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এটি নভেম্বরের মাঝামাঝির আগে সেন্টকমের দায়িত্বাধীন এলাকায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে কিনা, তার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপের আগমন।