Eng
আন্তর্জাতিক, লিড নিউজ

ট্রাম্প প্রশাসনের পদত্যাগের গুঞ্জন উড়িয়ে দিল হোয়াইট হাউস

প্রকাশিত: , ৬ নভেম্বর ২০২৬ | ১১:১৭ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। এ পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দায়িত্ব ছাড়তে পারেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এসব খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া বলে নাকচ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন যে ১০ প্রার্থী।

বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে হেগসেথের ভূমিকা নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পেছনে এই যুদ্ধকে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তাঁকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জোরালো দাবি উঠেছে। এমনকি রিপাবলিকান দলের ভেতর থেকেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি শোনা যাচ্ছে।

টেনেসি অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান প্রতিনিধি টমাস ম্যাসি ঘোষণা দিয়েছেন যে, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অভিশংসনের জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করবেন। ম্যাসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, জানুয়ারিতে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ট্রাম্পের উচিত হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়া। একই সঙ্গে সিনেটে নতুন উত্তরসূরি নিয়োগ নিশ্চিত করার এখনই উপযুক্ত সময় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। তিনি এ উদ্যোগের পেছনে ‘একজন অসন্তুষ্ট, পরাজিত কংগ্রেস সদস্য এবং তাঁর সব ডেমোক্র্যাট মিত্র’ সম্পৃক্ত আছেন বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তাঁর নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা বিভাগ কীভাবে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়ন করেছে, তার বিবরণ দিয়েছেন।

অভিশংসনের হুমকির জবাবে একটি ভিডিও বিবৃতিতে হেগসেথ নিজের ভূমিকার পক্ষে কথা বলেছেন।

তিনি এসব উদ্যোগকে ‘ভুয়া অভিশংসন প্রস্তাব’ বলে নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘দেখুন, তারা আমাকে আক্রমণ করছে। তারা আমাদের আক্রমণ করছে কারণ আমরা কার্যকর। এতে কোনো কাজ হবে না, আমরা পিছু হটব না। তিনি আরও বলেন, তাঁর নেতৃত্বে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ বেড়েছে এবং প্রতিরক্ষাশিল্পের কাঠামো পুনর্গঠন হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করে তিনি যোগ করেন, তাঁদের নীতিগুলো অকার্যকর এবং রাজনৈতিক নাটক সাজিয়ে প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। তাই ক্ষমতার প্রদর্শনীর আড়ালে রাজনৈতিক নাটক মঞ্চস্থ করার প্রতি তাদের আসক্তি প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার চেষ্টায় ঠেলে দেয়।

অন্যদিকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পদ ছাড়ছেন বলে যে গুঞ্জন উঠেছে, তা তিনিও সরাসরি অস্বীকার করেছেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও জানান, ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করাই তাঁর পরিকল্পনা ছিল। পদ ছাড়ার খবর শুনে তিনি হাসি চেপে রেখে বলেন, ‘আমি যে কাজ করছি, তা ভালোবাসি। আর তাঁরা যখন বলেন আমি চাকরি ছেড়ে দেব, তখন আমি বলি—কোন চাকরিটা?’ বিনা রক্তপাতে যুক্তরাষ্ট্রে ‘রেজিম চেঞ্জ’।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, হেগসেথকে নিয়ে তিনি কিছু ফোন পেয়েছেন, তবে তাঁকে দায়িত্বে রাখার পূর্ণ ইচ্ছা তাঁর আছে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প হেগসেথের কাজের প্রশংসা করে বলেন, তিনি অসাধারণ কাজ করেছেন। ট্রাম্প এ সময় ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলা মাদুরোকে গ্রেপ্তার এবং চলমান ইরান যুদ্ধে হেগসেথের অবদানের কথা তুলে ধরেন।

তবে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আট মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধে দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন কিংবা সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ট্রাম্প বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের এই ভরাডুবির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেছে।

এছাড়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে নিয়ে অন্য একটি গুঞ্জন রয়েছে যে, টেনেসি অঙ্গরাজ্যের একটি শূন্য সিনেট আসনে নির্বাচন করার আগ্রহ রয়েছে তাঁর। সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটছে না।