Eng
জাতীয়, লিড নিউজ

ঢাকায় ২০৩০ সালের মধ্যে দুটি মনোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা

প্রকাশিত: , ৬ নভেম্বর ২০২৬ | ৬:১৭ অপরাহ্ণ

রাজধানী ঢাকায় ২০৩০ সালের মধ্যে দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে রুট দুটির বিস্তারিত নকশা তৈরির কাজ চলছে। নগরবাসীর যাতায়াত সহজ করতে এবং টেকসই গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান জানান, প্রস্তাবিত এই মনোরেল ব্যবস্থা রাজধানীর বিদ্যমান ও পরিকল্পিত মেট্রোরেলসহ অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করবে। এর ফলে যাত্রীরা তাদের গন্তব্যের শেষ অংশেও সহজে যাতায়াত করতে পারবেন। এই প্রকল্পটি পরিবেশবান্ধব এবং যাত্রী চাহিদা বেশি এমন এলাকায় যাতায়াতকে আরও সহজ ও দক্ষ করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রস্তাবিত মনোরেল রুটগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান ও পরিকল্পনায় থাকা মেট্রোরেল এবং অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবস্থার সংযোগ স্থাপনের সুযোগ থাকবে। গণপরিবহন ব্যবস্থার এমআরটি লাইনগুলোতে ফিডার সার্ভিস হিসেবে বাস চলাচলের সুযোগ সীমিত-এমন এলাকাগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি রুট চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পরামর্শকেরা প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই করেছেন। ডিটিসিএ রাজধানীর যানচলাচল মডেলের ভিত্তিতে যাত্রী চাহিদা নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য বুয়েটকে দিয়েছিল। বিআরটিসি (ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন) এর পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, চুক্তির শর্তমতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিস্তারিত নকশা জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে যাত্রী চাহিদা, সম্ভাব্য সুফল ও আর্থিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ”।

এই কাজের জন্য ‘কনসালট্যান্সি সার্ভিস ফর প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডি অব মনোরেল অ্যালাইনমেন্ট ইন্টিগ্রেশন উইথ মাস ট্রানজিট নেটওয়ার্কস ইন ঢাকা মেট্রোপলিটন রিজিয়ন’ শীর্ষক একটি পরামর্শক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এ প্রকল্পের জন্য সরকার রাজস্ব বাজেট থেকে ৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করেছে। সমীক্ষায় রুট নির্বাচন, স্টেশন ও ডিপোর স্থান নির্ধারণ, নির্মাণ ব্যয় এবং সামাজিক-পরিবেশগত প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয় মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (আরএসটিপি) অনুযায়ী, প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পাঁচটি মনোরেল রুটের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি প্রাথমিক রুট হলো: বিমানবন্দর-বসুন্ধরা (পূর্বাচল ও জলসিঁড়ি হয়ে, ২৫ দশমিক ২ কিমি), মধ্য বাড্ডা-ভুলতা (১৪ দশমিক ৬ কিমি), রামপুরা-ডেমরা (১০ দশমিক ৩ কিমি), মোহাম্মদপুর-পোস্তগোলা (১১ দশমিক ৭ কিমি) এবং উত্তরা সেন্টার হয়ে বিমানবন্দর-সাভার (১৭ দশমিক ৬ কিমি)।

এছাড়া আরও তিনটি রুটের প্রস্তাব রয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি থেকে কামরাঙ্গীরচর পর্যন্ত ৯টি স্টেশনের মনোরেল-৮, আলুব্দী থেকে শ্যামলী বা পশ্চিম আগারগাঁও পর্যন্ত ১০টি স্টেশনের মনোরেল-১০ এবং পল্টন থেকে সদরঘাট বা ঝিলমিল পর্যন্ত ৬ থেকে ১১টি স্টেশনের মনোরেল-১৩ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বুয়েটের একজন পরামর্শক জানান, তারা জনসংখ্যার ঘনত্ব, যাত্রী টানার এলাকা, গণপরিবহনের স্বল্পতা, যানজট এবং ডিপো নির্মাণের জন্য জমির প্রাপ্যতা বিবেচনা করে সমীক্ষা চালিয়েছেন। মনোরেল সাধারণত উড়ালপথে চলাচল করায় ঘনবসতিপূর্ণ ও সরু রাস্তা রয়েছে এমন এলাকায় এটি কতটা কার্যকর হতে পারে, সে বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে যাচাই করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, অর্থনৈতিক ও কারিগরি মানদণ্ডের ভিত্তিতে দ্রুতই দুটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রুট চূড়ান্ত করা হবে। দেশি ও প্রবাসী বিশেষজ্ঞ দলের সমন্বয়ে এই সমীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে নির্মাণ থেকে শুরু করে পরিচালন ব্যয় পর্যন্ত সবকিছুর যৌক্তিকতা যাচাই করা যায়। নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ঢাকার যানজট নিরসনে এই আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা চালুর ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কাজে দেশীয় ও প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।