Eng
অপরাধ, লিড নিউজ

চকরিয়ায় গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে স্বামী আটক: তদন্তে পুলিশ

প্রকাশিত: , ৬ নভেম্বর ২০২৬ | ৬:৪৬ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের চকরিয়ার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের মাঝের পাড়া গ্রামে রুমা আকতার (৩২) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তাঁর মৃত্যুর পর স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী মোহাম্মদ মানিককে (৩৬) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, গৃহবধূর শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান। শুক্রবার সকালে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় স্বামী মোহাম্মদ মানিককে (৩৬) আটক করে পুলিশের কাছে দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। তাঁর স্বামী মানিকও একই এলাকার বাসিন্দা।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, রুমা আকতারকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের বাবা বাহাদুর আলম তাঁর মেয়েকে হত্যার অভিযোগ তুলে স্বামী ও শাশুড়ির বিচার দাবি করেছেন। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তিন বছর ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। মানিকের মাদক সেবন ও নির্যাতনের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। তবে স্থানীয় সালিস বৈঠকের সদস্য আবদুর রহিম জানান, মানিকের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ সত্য হলেও, মৃত্যুর আগের দিন তিনি রুমাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কয়েক দফা চেষ্টা করেছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদক সেবন করে মানিক রুমার ওপর নির্যাতন চালাতেন, এটি সত্য। গৃহবধূ রুমা আকতার ওই গ্রামের বাহাদুর আলমের মেয়ে।

ঘটনাক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অসুস্থ রুমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার সকালে মানিক তাঁকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। দুপুরের দিকে তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয় এবং সন্ধ্যায় অবস্থার পুনরায় অবনতি হলে তাঁকে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেওয়ার পরামর্শ দেন। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, রাত ১০টার দিকে স্ত্রীকে বাড়ি নিয়ে আসেন মানিক। এরপর টাকা জোগাড় করে রাত দুইটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে লোহাগাড়ার আজিজনগর এলাকায় রুমার মৃত্যু হয়।

ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রশিদ আহমদ জানান, রুমা দীর্ঘ সময় ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং ঘটনার দিন মানিক তাঁকে দুবার হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। আপাতত কোনো মারধরের প্রমাণ পাওয়া না গেলেও, ঘটনার পরিস্থিতি ও পরিবারের অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। গৃহবধূর বাবার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।