
লালমনিরহাট প্রতিনিধি। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়ম, সিন্ডিকেট বাণিজ্য ও দখলদারিত্বের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসন এবং বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। এই অনিয়মের কারণে চলবলা ও চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বহু গ্রামবাসী আজ চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির শিকার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুড়িরহাট–চন্দ্রপুর সড়কের ৩ কিলোমিটার ৯৩ মিটার অংশ এবং দুহুলি–জোরগাছ জিসি সড়কের ৫ কিলোমিটার ২৫০ মিটার অংশ উন্নয়নের জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চন্দ্রপুর সড়কের সংস্কার কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেয়েছে মোহাম্মদ ইউনূস অ্যান্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং চলবলা সড়কের কাজের দায়িত্বে রয়েছে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।
দুই প্রতিষ্ঠানই পারফরমেন্স সিকিউরিটি জমা দিলেও চুক্তি সম্পাদন না হওয়ায় কার্যাদেশ হাতে আসেনি। অথচ উপজেলা প্রশাসনের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের যোগসাজশে অবৈধভাবে সড়কের খনন কাজ শুরু হয়। এই ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
অভিযোগের বিস্তারিত
ঠিকাদার এলাহী বকশ ও শাহ আজমসহ বেশ কয়েকজন ঠিকাদারি প্রতিনিধি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি, আদিতমারীর পলাশী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি হামিদুল ইসলামসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বেআইনিভাবে সড়কের কাজ দখল করে নেন। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানায়ও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
এর আগেও ২০২৩ সালে জেলা শ্রমিক দলের অফিস ভাঙচুর মামলায় ঠিকাদার এলাহী বকশ ও তার ছেলে সামসুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ফলে এ ঘটনায় তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, তবে প্রতিবেদকের হাতে তাদের লিখিত অভিযোগ এসেছে।
জনদুর্ভোগের চিত্র
সড়ক দুটি দীর্ঘদিন খুঁড়ে রাখায় বর্ষার পানিতে ছোট্ট হ্রদে পরিণত হয়েছে। পায়ে হেঁটে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই ভোগান্তিতে আছে। স্থানীয় বাসিন্দা সামাদ মিয়া বলেন, “দেড় মাস ধরে রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়েছে। ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। দ্রুত সংস্কার না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”
একজন গৃহবধূ জানান, মাদ্রাসার ছাত্ররা কোনোভাবে মাটি সমান করে হাঁটার পথ তৈরি করেছে। কিন্তু শিশুদের জন্য সেখানে সবসময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়ে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার যোগসাজশে বিএনপি নেতারা রাস্তার কাজ দখল করেছে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
প্রশাসনের বক্তব্য
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, “অবৈধভাবে সড়কের কাজ শুরু হওয়ার খবর পেয়ে আমরা তা বন্ধ করে দিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানাকে অবহিত করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই।”
এ বিষয়ে লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার আলম জানান, “মূল ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন না হওয়ায় কাজ শুরু হয়নি। কারা রাস্তা খুঁড়েছে তা জানার পর আমরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারবে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ।”
তবে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সরকারি ফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এলাকাবাসীর দাবি
ভুক্তভোগী মানুষ দ্রুত সমস্যার সমাধান ও সংস্কারকাজ শুরুর দাবি জানিয়েছে। তারা আশা করছে, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং দায়িত্বে অবহেলার জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।