
পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ সংবিধান ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি বলেন, সংবিধান যথাযথভাবে মানা হলে দেশের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থান ভিন্ন হতে পারতো।
সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে নির্ধারিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন বলে জানা গেছে। বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, সংবিধান যদি বাস্তবে কার্যকর থাকতো, তাহলে অনেক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ভিন্নভাবে প্রতিফলিত হতো। তিনি আরও বলেন, সংবিধান সবসময় জনগণের অধিকার রক্ষা করতে পারেনি—এমন অভিজ্ঞতার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন।
তার বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, অতীতে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন তিনি নিজেই। তার ভাষ্যমতে, বহু মামলায় জড়ানো, দীর্ঘ সময় কারাবাস এবং একাধিকবার পুনরায় গ্রেপ্তারের মতো ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমনকি ‘গুম’ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ড. মাসুদ বলেন, রাজনৈতিক মতপ্রকাশ ও বিরোধী মতের ক্ষেত্রে সংবিধান কার্যকরভাবে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বৈষম্য দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া তিনি গণভোট প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তার মতে, গণভোটের প্রশ্নে বিভ্রান্তি তৈরি করা হলে তা দেশের জন্য নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। তিনি দাবি করেন, গণভোটের বিরোধিতা করা মানে জনগণের একটি বড় অংশের মতামতকে অগ্রাহ্য করা হতে পারে। একইসঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, অতীতের মতো রাজনৈতিক সহিংসতা ও দমন-পীড়নের পরিস্থিতি ফিরে আসতে পারে।
তার বক্তব্যে আরও বলা হয়, পূর্ববর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে দমন করার চেষ্টা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলন দমন করা।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব বক্তব্য রাজনৈতিক অবস্থান থেকে দেওয়া হতে পারে এবং বাস্তবতা যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।