
বিরোধীদলীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন বলে জানা গেছে, দেশের প্রচলিত সংবিধানের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করা নাগরিক অধিকারের অংশ হলেও কোনো ধরনের বিদ্রোহে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অধিবেশনে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন বলে জানা গেছে, বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে থেকেই মত প্রকাশ ও দাবি আদায়ের পথ খোলা রয়েছে। তবে রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য সহিংস বা বিদ্রোহী পন্থা গ্রহণ করা হবে না—এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি।
এ সময় ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে, ১৯৪৭ সালের ভৌগোলিক বিভাজনকে সম্মান করা হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে দেশের ভূখণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে নদী ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে কিছু এলাকা হারানোর কথাও তিনি উল্লেখ করেন বলে জানা গেছে।
তিনি আরও বলেন বলে অভিযোগ উঠেছে, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের যে রায় এসেছিল, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভোটের ফলাফল নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের সংঘাতের দিকে নিয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ওই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল।
সংবিধান ও রাজনৈতিক কাঠামো নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ১৯৭২ সালের সংবিধান এবং পরবর্তী সময়ে আনা পরিবর্তনগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে সংবিধানে সংশোধন আনা হয়েছে, ফলে আগের কাঠামোয় ফিরে যাওয়ার প্রশ্ন এখন বাস্তবসম্মত নয় বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, তিস্তা নদী ইস্যুতেও তিনি মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে ঘোষিত বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় নদী তীরবর্তী মানুষ হতাশ—এমন দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সুযোগ পেলে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে এবং এটি অগ্রাধিকার পাবে।
তিনি আরও বলেন বলে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় তিস্তা পাড়ের মানুষদের জীবনযাত্রা সবচেয়ে কঠিন বলে তার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। তাদের দুর্দশা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে, তিনি সাধারণ কৃষক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন এবং শৈশব থেকেই অভাব-অনটনের বাস্তবতা দেখেছেন। বিশেষ করে বাংলা মাসের নির্দিষ্ট সময়ে মানুষের কষ্টের কথা তুলে ধরেন তিনি।
এছাড়া চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে। তার মতে, এসব অপরাধ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং কিছু অসাধু ব্যক্তি দলের নাম ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ড চালায়। তিনি বলেন বলে অভিযোগ উঠেছে, এ ধরনের কার্যকলাপ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।