
রাজনীতির অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে ডা. মাহমুদা মিতুকে ঘিরে। সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপ্রাপ্ত এই নেত্রীর হলফনামায় দেওয়া তথ্য প্রকাশের পর তার মাসিক আয় নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে বলে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক হলেও তার বার্ষিক আয় উল্লেখ করা হয়েছে ৩ লাখ টাকা, যা মাসিক হিসেবে দাঁড়ায় প্রায় ২৫ হাজার টাকা। একজন চিকিৎসকের আয় এত কম কীভাবে হতে পারে—এ নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তার নামে কোনো জমি, বাড়ি বা গাড়ি নেই। স্থাবর সম্পদের অভাব থাকলেও তার প্রধান সম্পদ হিসেবে রয়েছে প্রায় ২৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা নগদ অর্থ এবং প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণ। এ তথ্য নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে জানা গেছে, তার স্বামীও একজন চিকিৎসক। তবে তাদের কারোরই কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তাদের পারিবারিক আয় ও সম্পদের উৎস নিয়েও নানা ধরনের আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
কিছু বিশ্লেষক বলছেন, দেশে চিকিৎসকদের গড় আয়ের সঙ্গে এই তথ্যের বেশ পার্থক্য রয়েছে। যদিও কেউ কেউ মনে করছেন, ব্যক্তিগত চেম্বার, কর্মস্থল বা অভিজ্ঞতার ভিন্নতার কারণে আয় কম হতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, তিনি মূলত ঝালকাঠি-১ আসন থেকে সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক সমঝোতার কারণে সেই আসন ছেড়ে দিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে তার ঘোষিত আয় ও সম্পদের তথ্য কতটা বাস্তবসম্মত—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে একজন চিকিৎসকের মাসিক আয় মাত্র ২৫ হাজার টাকা হওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হচ্ছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের দেওয়া হলফনামা যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টি আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। কারণ এসব তথ্য থেকেই প্রার্থীর আর্থিক স্বচ্ছতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।