
লালমনিরহাটের কাকিনা রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন তালুক বানীনগর এলাকায় ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও দমকা হাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গতকাল রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ করেই ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে।
এলাকাবাসী জানান, ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেক টিনের ঘরের চাল উড়ে যায়। বেশ কয়েকটি বসতবাড়ির আংশিক ক্ষতির খবরও পাওয়া গেছে। এছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় রাতভর দুর্ভোগে ছিলেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে কাকিনা রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন তালুক বানীনগর এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ঝড় শুরু হওয়ার পর অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করতে বাধ্য হন। প্রবল বাতাসের কারণে অনেকেই রাতভর ঘুমাতে পারেননি। কারও ঘরের চালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবার কোথাও গাছ পড়ে চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ঝড়ের কারণে বিদ্যুতের খুঁটি ও তারের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এতে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন অনেক পরিবার। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দ্রুত প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা করা হলে অনেক পরিবার কিছুটা স্বস্তি পাবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের এমন আকস্মিক ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয়রা একে অপরের সহযোগিতায় এগিয়ে আসছেন বলেও জানা গেছে। এলাকাবাসীর আশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।