
ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে শহরের পৌর কালেক্টর জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। হামলায় এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এনসিপির কয়েকজন নেতা ও কর্মী ঝিনাইদহ শহরে অবস্থান করছিলেন। জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় একদল ব্যক্তি তাদের লক্ষ্য করে ডিম ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে হামলাকারীরা হকিস্টিকসহ বিভিন্ন বস্তু নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় বলেও দাবি করা হয়েছে।
এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, ছাত্রদল ও যুবদলের কিছু নেতাকর্মী পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং কয়েকজনের মাথা ফেটে গেছে বলে জানা গেছে।
পাটওয়ারী আরও দাবি করেন, তাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়। একই সঙ্গে হামলার সময় তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সঙ্গে থাকা কিছু জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজনের ক্যামেরা ও অন্যান্য সরঞ্জামও হারিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা থানায় অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে। সেখানে তারা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে আবারও হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল, যুবদল বা বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও বিস্তারিত কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের সংঘর্ষ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।