
বন্দর উপজেলায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন দগ্ধ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোরের দিকে উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চানপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাটে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা কয়েকজন আগুনে দগ্ধ হন। বিস্ফোরণের পরপরই আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার কাজে অংশ নেন এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, সংশ্লিষ্ট বাসায় একটি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষিত ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সিলিন্ডার বা এর সংযোগ লাইনে কোনো ধরনের লিকেজ থেকে গ্যাস জমে থাকতে পারে। পরে আগুনের সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তিনি বলেন, আহত ব্যক্তিরা চিৎকার করতে করতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দগ্ধদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেছে। আহতদের মধ্যে সুলতানা বেগম, সায়েম, মিম, আব্দুল মান্নান ও আলী নামে পাঁচজন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, কয়েকজনের শ্বাসনালীতেও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, ফলে তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি ভাড়াটিয়া হিসেবে ওই বাসায় বসবাস করছিল। তারা নিয়মিত পাইপলাইনের গ্যাস ব্যবহার করলেও বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে একটি এলপিজি সিলিন্ডারও বাসায় রাখা ছিল বলে জানা গেছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা আবাসিক ভবনগুলোতে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস সিলিন্ডার ও সংযোগ পাইপ নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।