
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উত্তেজনাকর ঘটনার জেরে এক নারী শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি তর্ক-বিতর্ক থেকে শুরু হয়ে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে সহিংসতায় রূপ নেয়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার শুরু কলেজ মাঠে। সেখানে এক ব্যক্তি, যিনি বয়সে শিক্ষিকার বাবার সমান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, তার সঙ্গে শিক্ষিকার কথা কাটাকাটি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং এক পর্যায়ে শিক্ষিকা তাকে ধাক্কাধাক্কি বা অপদস্থ করেন—এমন কথাও শোনা গেছে এবং একটি ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
পরবর্তীতে বিষয়টি থেমে না থেকে অফিস কক্ষে গড়ায় বলে জানা গেছে। সেখানে আবারও দু’পক্ষের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই সময় শিক্ষিকা উত্তেজিত হয়ে ওই ব্যক্তিকে একটি থাপ্পড় দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের দাবি, এরপর উপস্থিত এক রাজনৈতিক দলের কর্মী, যাকে স্থানীয়ভাবে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে বলা হচ্ছে, ঘটনাস্থলে প্রতিক্রিয়া দেখান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারী শিক্ষককে জুতা দিয়ে মারধর করেন। এ সময় আরও কয়েকজন উপস্থিত ব্যক্তি তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন বলেও জানা গেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং তাকে অপদস্থ করার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, এর পেছনে চাঁদা সংক্রান্ত বিরোধ বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থাকতে পারে। অন্যদিকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাটি আকস্মিক এবং উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে ঘটে গেছে।
এ ঘটনায় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে শিক্ষাঙ্গনে এ ধরনের সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। সেই বিএনপি নেতাকে অবশেষে দলথেকে বহিষ্কার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনার পর স্থানীয় শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, শিক্ষাঙ্গনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি, নইলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।