
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার কয়েকটি কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নির্ধারিত কর্মকর্তারা উপস্থিত না থাকায় বিকল্প হিসেবে অন্য দপ্তরের কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব দিয়ে পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে উপজেলার তিনটি কেন্দ্রে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোথাও পরীক্ষা শুরুর আগেই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর মুঠোফোনে যোগাযোগ করে কর্মকর্তাকে কেন্দ্রে আসতে বলা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নাগেশ্বরী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় শুরুতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রশ্নপত্র সরবরাহের কাজ সম্পন্ন করেন। পরে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে ফোনে যোগাযোগ করে কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করা হয়। তিনি পরবর্তীতে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জানান, তিনি মূলত অন্য একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন। একই দিনে তার দপ্তরে একটি সরকারি জরিপ কার্যক্রম থাকায় তিনি ছুটিতে ছিলেন। পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুরোধে তিনি নাগেশ্বরী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে যান বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জানান, তিনি পূর্বনির্ধারিত ছুটিতে ছিলেন এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে আগেই অবহিত করেছিলেন।
নাগেশ্বরী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, নির্ধারিত কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকায় যিনি পরে কেন্দ্রে আসেন, তার কাছে লিখিত দায়িত্বপত্র ছিল না। তবে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাই ছিল কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।
একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানা গেছে নাগেশ্বরী মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র থেকেও। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রশিক্ষণে থাকায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিজেই ট্যাগ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। কলেজ কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কচাকাটা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রেও নির্ধারিত কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় বিকল্প হিসেবে দুইজন সরকারি কর্মকর্তাকে মুঠোফোনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের একজন জানান, তিনি শুধু ফোনে নির্দেশনা পেয়েই কেন্দ্রে উপস্থিত হন। লিখিত নির্দেশনার বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।
এ ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, দেশের অন্যতম বড় পাবলিক পরীক্ষায় দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে লিখিত নির্দেশনা ও পূর্বপ্রস্তুতি থাকা জরুরি। শুধুমাত্র মৌখিক নির্দেশনার মাধ্যমে এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতির ইঙ্গিত দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।
তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, উপজেলায় পর্যাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সহকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নিয়েছেন।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ট্যাগ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে আগেই চিঠি প্রদান করা হয়েছিল। কেউ যথাযথ কারণ ছাড়া দায়িত্ব পালন না করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর মুঠোফোনে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি যদি হয়ে থাকে, তাহলে তার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ওপর বর্তায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও জানান, ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ফলে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকেই দেওয়া সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলায় সাধারণ শিক্ষা, আলিম ও কারিগরি মিলিয়ে কয়েক ডজন কেন্দ্রে হাজারো পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি উঠেছে বলে জানা গেছে।