
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা, ১৬ জুলাই ২০২৬: সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন-ভাতা এবং চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে পেশাদার সাংবাদিকতার বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি বেসরকারি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে দক্ষ ও মেধাবী ব্যক্তিদের এই পেশায় ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, সম্মানজনক বেতন কাঠামো ও চাকরির নিশ্চয়তা থাকলে সাংবাদিকরা আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন এবং পেশাগত দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম শিল্পের উন্নয়নের জন্য শুধু সাংবাদিকদের স্বার্থ নয়, সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে কার্যকর নীতিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় বক্তব্যে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে গণমাধ্যম সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় কমিশন গঠনের বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে একটি আধুনিক, দায়িত্বশীল, স্বাধীন ও টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় গণমাধ্যমের বড় চ্যালেঞ্জ সরকার ও সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক নয়; বরং ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার। এ ধরনের তথ্য মোকাবিলায় রাষ্ট্র, গণমাধ্যম এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এছাড়া প্রচলিত সংবাদমাধ্যম এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্বাধীন কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রসারের কারণে বিজ্ঞাপনের একটি বড় অংশ ডিজিটাল মাধ্যমে চলে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। তাই মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে প্রযুক্তিনির্ভর ও আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টনের প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের পাঠক ও দর্শকসংখ্যা মূল্যায়নে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন। এ ধরনের স্বচ্ছ মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু হলে সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশনের সম্পাদক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাংবাদিকতা, গণমাধ্যম শিল্পের বর্তমান অবস্থা, কর্মপরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন বলে জানা গেছে।