
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
নরসিংদীতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি সদস্য (রুকন) সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংসদীয় রাজনীতি এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের নানা রাজনৈতিক অস্থিরতার পেছনে দিল্লির প্রভাব রয়েছে বলে তাদের দলের ধারণা।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে নরসিংদী শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত ওই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানে জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার বলেন, যেকোনো সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের সমাধান সংসদের ভেতরেই হওয়া উচিত। তাঁর দাবি, চলমান সংস্কার ও রাজনৈতিক ইস্যুগুলো আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, সংসদে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না এলে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গণতান্ত্রিক কর্মসূচির পথ খোলা থাকতে পারে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকট ও অস্থিরতার পেছনে ভারতের রাজধানী দিল্লির ভূমিকা রয়েছে বলে তাদের দলের বিশ্বাস। যদিও এ বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা প্রসঙ্গেও গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, জুলাই-আগস্টের বিভিন্ন ঘটনার বিচার চেয়ে দেশের বহু মানুষ এখনও প্রত্যাশা করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের একটি অংশ অতীতের ঘটনাগুলোর বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক সম্মানজনক সম্পর্ক চায়। তবে সেই সম্পর্ক যেন ন্যায্যতা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে, এমন প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আ ফ ম আব্দুস সাত্তার এবং মশিউল আলমসহ অন্যান্য নেতারা। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন নরসিংদী জেলা জামায়াতের সংগঠক মো. ইব্রাহিম ভুঁইয়া।
জানা গেছে, সদস্য সম্মেলনের আগে জেলার রুকনদের অংশগ্রহণে একটি কর্মশালারও আয়োজন করা হয়। সেখানে সাংগঠনিক কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন দলের নেতাদের এমন বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে। তবে উত্থাপিত অভিযোগ বা দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।