বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাতেই ১২ জেলায় ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা, সতর্কবার্তা জারি সমাবেশে বিস্ফোরণের পর প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ নাহিদ ইসলামের এলডিসি উত্তরণে অর্থনীতি রাজনীতির সমন্বয় জরুরি বললেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে আইনগত বাধা নেই বললেন রুমিন ফারহানা ২০২৭ গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীকে ইইউর আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পল্লী উন্নয়ন সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে বলে দাবি মির্জা ফখরুলের সরকারি ব্যানার বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি নির্দেশ এইচএসসির প্রথম দুই পরীক্ষায় ভুল প্রশ্ন বিতরণে ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থী-অভিভাবক বাজারে ঘুমন্ত নারীকে ধ/র্ষণের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরালের পর অভিযুক্ত গ্রে/ফতার লালমনিরহাটে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে নতুন আশার বার্তা দিলেন মির্জা ফখরুল

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে মধ্যরাতে তীব্র শিলাবৃষ্টি, ঘরবাড়ি ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ২৭ মার্চ দিবাগত মধ্যরাতে হঠাৎ তীব্র শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ১২টার দিকে শুরু হওয়া এই শিলাবৃষ্টি প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট স্থায়ী ছিল, যার ফলে বিভিন্ন এলাকায় বসতবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ করেই আকাশ মেঘে ঢেকে গিয়ে বজ্রপাতসহ বড় আকারের শিলা পড়তে শুরু করে। অনেকেই ঘুমিয়ে থাকায় প্রথমে পরিস্থিতি বুঝে উঠতে পারেননি। শিলার আকার বড় হওয়ায় টিনের তৈরি ঘরের চাল ফুটো হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভিজে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন অনেক পরিবার।
ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, এমন শিলাবৃষ্টি তারা আগে খুব কমই দেখেছেন। রাতের অন্ধকারে কিছু করার সুযোগ না থাকায় তারা অসহায় হয়ে পড়েন। অনেক পরিবার ভোর হওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখে হতবাক হয়ে যান বলে জানিয়েছেন।
এদিকে কৃষিখাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিলার আঘাতে তামাক ও ভুট্টার জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে তামাক পাতায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া আম ও লিচুর মুকুল ঝরে পড়ায় মৌসুমি ফলন নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে কৃষকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
কৃষকদের একজন জানান, অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। হঠাৎ এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। একই সঙ্গে দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রয়োজন বলে দাবি উঠেছে।
উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন—চন্দ্রপুর, চলবলা ও মদাতি এলাকায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নিজ উদ্যোগে টিন মেরামত ও ফসলের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। তবে আর্থিক সংকটের কারণে অনেকের পক্ষে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হলে তারা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Theme Customized By BreakingNews