
রাজবাড়ীতে বজ্রপাতের ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, তবে একই ঘটনায় তার কোলের শিশু অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে—এমনটি জানা গেছে স্থানীয় সূত্রে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার একটি এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নিহত ব্যক্তি সুমন আহম্মেদ (৩৫), যিনি স্থানীয় বাসিন্দা এবং একটি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন বলে পরিবারের বরাতে জানা গেছে। ঘটনার সময় তিনি তার সাড়ে তিন বছর বয়সী মেয়ে সাফিয়াকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি দোকানের দিকে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি অনুযায়ী, সকাল প্রায় পৌনে ৭টার দিকে হঠাৎ করে বজ্রপাত হলে সুমন গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। একই সঙ্গে তার কোল থেকে শিশু সাফিয়া ছিটকে পড়ে যায়। তবে আশ্চর্যজনকভাবে শিশুটি গুরুতর কোনো আঘাত ছাড়াই বেঁচে যায় বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে সুমনকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে এটি বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে খোলা জায়গায় চলাফেরা বা বাইরে অবস্থান করার সময় সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তার কথা তারা উল্লেখ করেন।
এদিকে, আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন ধরেই বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে আসছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে অবস্থান না করা, উঁচু গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছাকাছি না যাওয়া এবং নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করা জরুরি।
ঘটনার পর নিহতের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, সুমন ছিলেন শান্ত স্বভাবের মানুষ এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য। তার হঠাৎ মৃত্যুতে পরিবারটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কখনো কখনো কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, যদিও একই পরিস্থিতিতে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যাওয়ার ঘটনাও ঘটতে দেখা যায়।