
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট সব পরীক্ষা আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, যাতায়াতের সমস্যা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে যে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি ও সমমানের পাশাপাশি আলিম, এইচএসসি (বিএমটি-ভোকেশনাল), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষার অবশিষ্ট বিষয়গুলোর পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে না।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বহু পরীক্ষার্থী ও তাদের পরিবার এখনো দুর্যোগের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ফলে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে বলে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের সার্বিক অবস্থা, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত পর্যালোচনা করার পর এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বাইরে দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন অন্যান্য জেলার পরীক্ষাও যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে বলে বলা হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি না করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা করাই যৌক্তিক হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে, পরীক্ষা কবে থেকে আবার শুরু হবে—এ বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি বলে জানা গেছে। সংশোধিত রুটিন প্রকাশের মাধ্যমে পরবর্তী পরীক্ষার সময় জানিয়ে দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে।
পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গুজব বা অনির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতির উন্নতি হলে নতুন সময়সূচি প্রকাশ করা হবে এবং সে অনুযায়ী অবশিষ্ট পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে।