
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চলমান এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের কয়েকটি প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আপত্তির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ৬ ও ৭ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। এ পরিস্থিতিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের উত্থাপিত অভিযোগ গুরুত্বসহকারে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে যাতে কোনো পরীক্ষার্থী ক্ষতির মুখে না পড়েন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রশ্নে যদি কোনো ধরনের ত্রুটি বা অসংগতি প্রমাণিত হয়, তাহলে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ওই প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, পরীক্ষার পর থেকেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের দুটি প্রশ্ন নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ও অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পরীক্ষার্থী দাবি করেন, প্রশ্নগুলোর উপস্থাপনা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও পর্যালোচনা শেষ হয়নি বলে জানা গেছে।
শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে অযাচিত গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরীক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে কেবল দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। পর্যালোচনার ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। তাই যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিলেও বোর্ডের আশ্বাসে অনেকেই ইতিবাচক প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, পরীক্ষার প্রশ্নে যদি বাস্তবেই কোনো অসংগতি থেকে থাকে, তাহলে মূল্যায়নের সময় ন্যায্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রশ্ন প্রণয়ন ও যাচাই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে অভিযোগগুলো পর্যালোচনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশের পরই প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে বলে জানা গেছে।