
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
বরিশালে অনুষ্ঠিত এক বিভাগীয় সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকার ও বিএনপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে। শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত ওই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকার এমন কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে যা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তিনি সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত কমিটির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বলে জানা গেছে। তাঁর দাবি, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা সাধারণ মানুষ সহজভাবে নেবে না।
জানা গেছে, তিনি আরও বলেন যে গণভোটের দাবি উপেক্ষা করা হলে রাজধানী ঢাকায় বৃহত্তর কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হতে পারে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সম্ভাব্য কর্মসূচির জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান বলেও সমাবেশে উল্লেখ করেন।
বিএনপির প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে যে অবস্থান ছিল, তা পরে পরিবর্তিত হয়েছিল। একই ধরনের পরিস্থিতি যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়েও তিনি সতর্কবার্তা দেন বলে জানা গেছে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাতের পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করাই দেশের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে রাজপথমুখী করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে তার নেতিবাচক প্রভাব দেশের সার্বিক পরিবেশের ওপর পড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে একই সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করেন বলে জানা গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বে আলোচিত সংস্কার কর্মসূচির বিষয়ে এখন আর তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। সংবিধান সংস্কার নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে নতুন রাজনৈতিক দাবি উত্থাপন করা হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দৃশ্যমান নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘোষিত লক্ষ্যের তুলনায় বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি তিনি কিছু রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও উত্থাপন করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, সমাবেশে উত্থাপিত সব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট নেতাদের নিজস্ব দাবি ও অভিযোগ। এসব বিষয়ে সরকারের বা অভিযুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হলে তা যুক্ত হলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।